বর্তমান পৃথিবীর এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে সবচেয়ে সাধারণ যে বিষয়টি লক্ষ করা যায়, তা হচ্ছে বুদ্ধিবিভ্রম। যেখানে অধিকাংশ মানুষ চিন্তাহীনতা এবং উপলব্ধিহীনতায় ভুগছে। অথচ একটি জাতির উন্নতি বা বিকাশের মূলমন্ত্র হচ্ছে সচেতনতা এবং বিচক্ষণতা। যেখানে তারা তাদের সম্পর্কে অবগত। এমন একটি সমাজ, যেখানে মানুষ নিজের সম্পর্কে সচেতন, নিজের বিশ্বাসকে প্রশ্ন করতে পারে এবং বাস্তবতাকে বুঝতে শেখে।
এই আধুনিক বিশ্বে যত বেশি তথ্যের পরিমাণ বাড়ছে এবং ছড়ানো সহজ হচ্ছে মানুষকে বিভ্রান্ত করা তত সহজ হচ্ছে। ভুল তথ্য, অপপ্রচার এবং অন্ধানুসরণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই বর্তমান সময়ে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হচ্ছে,
Question Everything.
আলবার্ট আইনস্টাইন একবার বলেছিলেন, “The important thing is not to stop questioning. Curiosity has its own reason for existing.”
তাই হয়তো আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব নতুন কিছু শেখা নয়, বরং শেখা প্রতিটি বিষয়কে প্রশ্ন করা। প্রতিটি বিশ্বাসকে পরীক্ষা করা। নিজের ভুলকে স্বীকার করার সাহস রাখা। কারণ চিন্তার শুরু হয় সন্দেহ থেকে, আর সত্যের শুরু হয় সৎ অনুসন্ধান থেকে। যে সমাজে মানুষ ভাবতে শেখে, সেখানে মতের ভিন্নতা ভয়ের বিষয় নয়, বরং উন্নতির ভিত্তি। আর যে সমাজে ভাবনাকে বিলাসিতা মনে করা হয়, সেখানে সত্য কখনো হারিয়ে যায় না, কিন্তু এতটাই দুর্লভ হয়ে ওঠে যে অধিকাংশ মানুষ তার অস্তিত্বই ভুলে যায়। শেষ পর্যন্ত, সভ্যতার প্রকৃত অগ্রগতি প্রযুক্তিতে নয়, মানুষের চিন্তার গভীরতায় নির্ধারিত হয়। কারণ যে মানুষ নিজেকে প্রশ্ন করতে পারে, সে-ই একদিন পৃথিবীকেও নতুনভাবে বুঝতে শেখে।