Love is "an intense weird feeling of deep affection."
সার্বিক সংজ্ঞাই, এটা একটা অনির্দিষ্ট অস্থায়ী আবেগের অস্তিত্বের নাম। যার নির্ভরতা বা নির্দিষ্টতা সম্পূর্ণ প্রাসঙ্গিক বিষয়ের উপর নির্ভরশীল হলেও এর যৌক্তিকতা প্রেক্ষাপট সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে বিষয়গুলো অদৃশ্য আস্থায় স্থাপিত। যা জড় বা জীব উভয় ক্ষেত্রেই জীবের সাপেক্ষে প্রযোজ্য। কিন্তু এর ধরন বা মাত্রার কোন নির্দিষ্টতা নেই এবং পরিমাণ অদ্ভুত বিষয় সাপেক্ষে নির্ধারিত যা কোনভাবেই অনুমান-যোগ্য নয়। যদিও প্রকারভেদ সাপেক্ষে এর ভিন্নতা ব্যাপক। যা সাধারণত মস্তিষ্কের বিশেষ কয়েকটা অংশের দ্বারা কার্যত বা বিশেষ পদার্থের ক্ষরনের মাধ্যমে কার্যকারিত। এখানে মূলত উত্তেজিত মস্তিষ্কের প্রভাবেই সবকিছুর নীতি নির্ধারণ হয়ে থাকে।
প্রভাবিত মস্তিষ্কের অঞ্চল ও হরমোন প্রবাহ (Endocrine System)
The American Psychological Association (APA) offers a psychodynamic definition of a love, describing it as a "complex" emotion that involves: Affection toward another individual. A sense of tenderness. Sensitivity to their response
অর্থাৎ ব্যক্তি ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত জটিল হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে স্নেহ, কোমলতা এবং সংবেদনশীলতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে। যা গভীর স্নেহের তীব্র অনুভূতিকে নির্দেশ করে। স্বাভাবিকভাবে এটি ব্যাপক আচ্ছন্ন যা কখনোই সুস্পষ্ট হয় না।
♥ Love Chemicals ♥
The initial happy feelings of being in love is stimulated by 3 chemicals in the brain: noradrenaline that stimulates adrenaline production causing that racing heart and sweaty palms; dopamine, the feel-good chemical; and phenylethylamine that is released when we're near our crush giving us butterflies in our tummies.
According to a team of scientists led by Dr. Helen Fisher at Rutgers, romantic love can be broken down into three categories: lust, attraction, and attachment. Each category is characterized by its own set of hormones.
Lust
Testosterone & Estrogen
Attraction
Dopamine, Norepinephrine & Serotonin
Attachment
Oxytocin & Vasopressin
Heart Beats
Feel the rhythm of your pulse
♥ Love Styles ♥
Primary
Eros = passionate love
Ludus = game-playing love
Storge = friendship love
Secondary
Pragma = logical, "shopping list" love
Mania = possessive, dependent love
Agape = all-giving, selfless love
♥ প্রেম ও ভালোবাসা ♥
প্রেম এবং ভালোবাসার মধ্যে পার্থক্য:
একজন মানুষ হিসেবে এটা জানা আবশ্যক যে ভালোবাসা বা প্রেমের স্বতন্ত্র সংজ্ঞা কি?
প্রেম বা ভালোবাসার তাত্ত্বিক অর্থ এত বিস্তৃত এবং গভীর যে, ব্যাখ্যা না দিয়ে সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতার মধ্যে এর বিভিন্নমুখী তাৎপর্যকে তুলে ধরা সম্ভব নয়। সম্ভবত এই একটি মাত্র জটিলতার কারণেই ভালোবাসার সংজ্ঞা নিয়ে অধিকাংশ দার্শনিকগণ ভালোবাসাকে জটাজালের মত করে ফেলেছেন।
- স্বাভাবিক অর্থে বলা যায়: প্রেম হলো আত্মসুখের জন্য প্রেমাস্পদকে আপন করে নেওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা অন্যদিকে ভালোবাসা হলো প্রেমাস্পদের সুখের প্রত্যাশা বা একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসাবে তার সু-প্রত্যাশায় যেকোনো ধরনের প্রয়োজনে নিজেকে সমর্পণ করা। যেখানে নিঃস্বার্থতা আবশ্যক।
প্রেম আত্মহিত-কেন্দ্রিক, ভালোবাসা পরহিত-কেন্দ্রিক। প্রেম ভালোবাসার একটা রূপ, কিন্তু ভালোবাসা স্বতন্ত্র। প্রেমের ক্ষেত্র সংকীর্ণ, আর ভালোবাসার ক্ষেত্র ব্যাপক ও সার্বজনীন। দুপক্ষের সম্মতিতে প্রেম হয়, আর ভালোবাসায় অপরপক্ষের সম্মতি মুখ্য নয়।
ভালোবাসা হয় এক পক্ষ থেকে আর প্রেম হয় উভয় পক্ষ থেকে, ভালোবাসার জন্য প্রেম আবশ্যক নয় কিন্তু প্রেমের জন্য ভালোবাসা অপরিহার্য। ভালোবাসা একটি আপেক্ষিক বিষয়। এটি হলো এমন একটি বিষয় যা আপনাকে কারোর প্রতি হৃদয়তা, সহানুভূতি ও বিশেষ টান তৈরি করতে পারে। যা আপনি চাইলেই উপেক্ষা করতে পারবেন না।
'ভালবাসা' তে দুই পক্ষের কোনো ভূমিকা নেই, প্রধান ভূমিকা হল 'ত্যাগ'! ভালোবাসা একটি মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক একটি অভিজ্ঞতা। বিশেষ কোন মানুষের জন্য স্নেহের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ। তবুও ভালোবাসাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা যায়। ভালোবাসা হচ্ছে, এমন বিষয় যা না থাকলে মানুষ পশু হয়ে যেতো। ভালোবাসা দিয়ে পৃথিবী নয় ঈশ্বরের স্বর্গ, আরশ, লৌহ, কুরশি জয় করা সম্ভব। আত্মিক কারণে মানুষের জীবনে ভালোবাসার প্রয়োজন আবশ্যক। ভালোবাসা সবার সাথে হতে পারে। 'ভালবাসায়' কখনই মিলনে পূর্ণতা পাওয়ার বিষয়টি আসে না, মিলনের আকাঙ্ক্ষা মানেই আত্ম-আকাঙ্ক্ষা, আত্ম-আকাঙ্ক্ষা দ্বারা কখনই অন্যের ভাল করা সম্ভব নয়, সে শুধু আত্ম-সুখ!! প্রেম হল প্রাণের আরাম, মনের শান্তি! বলা যায় এটি একটি উত্তেজনাপূর্ণ এবং রহস্যময় অনুভূতি! যেখানে দুপক্ষতা আবশ্যক, শুধু এক পক্ষ থেকে প্রেম হয়না।
প্রকৃত অর্থে ভালোবাসা ত্যাগের পূজারী আর প্রেম ভোগের পূজারী। সাধারণত আত্মহিত, আত্মসন্তুষ্টি, আত্মশুদ্ধি, আত্মতুষ্টি ইত্যাদি কারণেই প্রেমের জন্ম বা ব্যাপ্তি!! প্রেমাস্পদের প্রতি আসক্তি ছাড়া প্রেম আসেনা, প্রেমাস্পদের প্রতি আসক্তি সাধারণত সম্মতি বা সহযোগ থেকেই আসে, নাহলে সে প্রেমে ব্যাধা ঘটে। ভালোবাসার উল্টো দিকে থাকতে পারে আত্মস্থান, শোক, যত্ন, এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব। কারণ এটি সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সাপেক্ষে, এটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত অবস্থার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, যা তার অত্যন্ত কমবুদ্ধি বা আত্মমননের কারণে ঘটতে পারে।
সত্যিকার অর্থে ভালোবাসার সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছে প্রেম এবং সর্বোচ্চ জটিল। বলা যায় যে পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষার্থে ভালোবাসার ভূমিকা অনস্বীকার্য। ব্যাপারটি আসলে অনেক উঁচু পর্যায়ের, যদি তা একটা ভিন্ন জগৎ হিসাবে চিন্তা করা যায়। অনেক বড় বড় কবি সাহিত্যিক তার সম্পূর্ণ জীবন কাটিয়ে দিয়েছিলেন শুধুমাত্র এই বিষয়টিকে বোঝার চেষ্টা করতে গিয়ে তারপরেও ২১শতকে এসে এই বিষয়টি স্পষ্ট না। যদিও ব্যাপারটি সুন্দর হিসেবেই বিবেচিত। তাহলে কেন এত ভুল বুঝাবুঝি?
প্রেম
চোখ, কান, নাক, মুখ, মস্তিষ্ক প্রেম/ভালোবাসা সৃষ্টির মূল উপকরণ। প্রথমে আমাদের চোখে কাউকে ভালোলাগে, কারণ সুন্দর জিনিস সবার চোখেই দেখতে চায়। তারপর চোখ সেই ডেটা বা তার একটি ছবি মস্তিষ্কে পৌঁছাতে সাহায্য করে। আর এই মস্তিষ্ক যদি তা নিয়ে ৩০ সেকেন্ড এর বেশি ভাবতে শুরু করে।
তাহলেই জানতে হবে তাকে আপনার ভালো লাগতে শুরু করেছে বা তার সম্বন্ধে খারাপ কিছু ভাবতে শুরু করেছে। প্রেম/ভালোবাসার প্রথম শর্ত হচ্ছে মানসিক আকর্ষণ।
প্রেমের বৈশিষ্ট্য গুলো নিচে দেওয়া হলো:
- ক) শরীরে ও মনে একরকম ভালোলাগার সৃষ্টি হয়।
- খ) বার বার তার কথায় ভাবতে শুরু করে মনের অজান্তেই।
- গ) সে ছাড়া বা তাকে ছাড়া মন চঞ্চল হয়ে উঠে।
- ঘ) সে কাছে থাকলে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে দামী জিনিস টি তার কাছেই আছে।
- ঙ) অপরদিকে সে না থাকলে মনকে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
- চ) কাজে মনোযোগ দেওয়া যায় না।
- ছ) ঘুম অনেক দেরিতে আসে।
- জ) হঠাৎ করেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে চোখে পড়ে।
- ঝ) দিনের বেশিরভাগ সময় তার কথা ভাবতে এবং তার সাথে সময় কাটাতে মন অস্থির হয়ে উঠে।
প্রেম হল অন্য কোন ব্যক্তির প্রতি দৃঢ় আকর্ষণ(ভালোবাসার অনুভূতি) এবং এসকল বিষয়ের ফলে সৃষ্ট আবেগ-অনুভূতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তি কর্তৃক বিয়ের নিমিত্তে বিবাহপূর্ব সম্পর্ক গঠনকারী আচরণাবলি প্রকাশের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যদিও প্রেমাত্মক ভালোবাসার আবেগ-অনুভূতিগুলো ব্যাপকভাবে বিশেষ আকর্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত, তবুও শারীরিক সম্ভোগের আশা ব্যতিরেকেও প্রেমানুভূতির অস্তিত্ব থাকতে পারে এবং পরবর্তীকালে তা সেভাবে প্রকাশিতও হতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে প্রেম নামক পরিভাষাটি মধ্যযুগের অভিজাত নারীদের প্রতি নাইট সৈনিকদের প্রেমাবেগীয় মতবাদ হতে এসেছে যা মধ্যযুগের শিভালরিক প্রেমের সাহিত্যের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রেমের বিষয়টি নিয়ে আজও বিতর্কের শেষ নেই। যদিও এটাকে অনেকে অসুস্থতা হিসেবে বিবেচনা করেন।
Richard Schwartz, associate professor of psychiatry at Harvard Medical School (HMS) and a consultant to McLean and Massachusetts General (MGH) hospitals, says "it's never been proven that love makes you physically sick, though it does raise levels of cortisol, a stress hormone that has been shown to suppress immune function."
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার 'ইনস্টিটিউট অফ হার্টম্যাথ' টানা বিশ-বছর ধরে তীক্ষ্ণ নজর রেখেছিল হৃদয়ের অলি-গলিতে, যাতে করে জানা যায় মানুষের আবেগ, অনুভূতি আর প্রেম বা ভালোবাসার কলকাঠি নাড়ে শরীরের কোন অংশ বা কোন উপাদান। এই গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে যে, মানুষের হৃদয় থেকে এক ধরনের (ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডস) ত্বরিত চুম্বকক্ষেত্র নিঃসৃত হয় এবং এটি নির্ভর করে আবেগের ধরনের ওপর। আরও মজার ব্যাপার হলো,
কখনো কখনো মানুষের শরীরের চতুর্দিকে কয়েক ফুট পর্যন্ত এই ত্বরিত চুম্বক-ক্ষেত্রের রেশ পাওয়া যায়। প্রেমে পড়লে 'গাল লাল হয়ে যায়, হৃদস্পন্দনের গতি বেড়ে যায়, হাতের তালু ঘেমে যায়'-এসব লক্ষণের কথা বলতে অবশ্য কারও বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার হয় না।
আমরা যদি প্রেমের ইতিহাস বিখ্যাত কয়েকটা সংজ্ঞা দেখি,,,
- • প্রেম হল সেই শর্ত যেখানে অন্য ব্যক্তির সুখ আপনার নিজের জন্য অপরিহার্য।
- • প্রেম হলো সিগারেটের মত যার আরম্ভ অগ্নি দিয়ে, আর পরিণতি ছাইয়ে।
- • প্রেম মানুষকে শান্তি দেয় কিন্তু স্বস্তি দেয় না।
- • প্রেমের জন্য স্বার্থ ত্যাগে কোন ন্যায় অন্যায় বোধ থাকে না।
- • প্রেম মানে দুজনের কাছে দুজনের আত্মসমর্পণ।
- • প্রেমই মুক্তি, প্রেমই শক্তি, প্রেমই পরিবর্তনের গুপ্তশক্তি, প্রেমই দিব্য সৌন্দর্যের দর্পণ স্বরূপ।
- • প্রেম মানুষকে সংযমী, চরিত্রবান, বলবান, সাধনার দৃঢ়বান করে, যুবককে সংগ্রামশীল, মসৃণ ও গৌরবশীল করে।
- • প্রেম হচ্ছে দুটি মনকে এক রশিতে বাঁধা, অর্থাৎ মরলে দু'জন এক সাথে মরা আর বাঁচলে দু'জন একসাথে বাঁচা।
- • প্রেমের নীরব স্বপ্ন যত মধুর, তার অর্ধেক মধুরতাও জীবনে আর কিছুতেই নেই।
- • প্রেম প্রকৃতির দ্বিতীয় সূর্য।
যদিও হাজারো সংজ্ঞা হাজারো যুক্তি দিতে প্রস্তুত কিন্তু কোনোটাকেই নির্দিষ্ট হয় নাই, কারণ এখানে ব্যাপারটা-ই আপেক্ষিক। বস্তুর গুণ যেমন ভাবের বিষয়, তেমনি প্রেম এবং সুখ ভাবের বিষয় হলেও প্রেম হচ্ছে বৈষয়িক এবং সুখ হচ্ছে আধ্যাত্মিক। প্রেম এমন একটি ভাবার্থক শব্দ, যার তুলনা শুধু আয়নার সাথেই চলে। আয়নার সামনে যে-যেভাবে দাঁড়ায় তার প্রতিবিম্ব এবং রূপ ঠিক সেভাবেই ফুটে ওঠে। আয়নার কাছে ব্যক্তির সৌন্দর্যের যেমন কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই, প্রেম শব্দের ক্ষেত্রেও তাই। প্রেম শব্দটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে সমান। পার্থক্য এই যে, ভিন্ন-ভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রেমের তাত্ত্বিক অর্থ ভিন্ন-ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই, কোনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের কুৎসিত চেহারা দেখে আয়নাকে কুৎসিত ভাবা যায় না।
হার্বাট স্পেন্সার প্রেমের স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেখিয়েছেন যে, প্রেম দেহ ও মনের বহু সূক্ষ্ম উপকরণ নিয়ে গঠিত। যেমন: সম্মানবোধ, সৌন্দর্য উপভোগবৃত্তি, মায়া-মমতা, দৈহিক আকাঙ্ক্ষাবৃত্তি, অনুমোদন ভিক্ষা, আত্মসম্মানবোধ, নিজস্ব মনে করা, ব্যক্তিত্বের বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার কর্মস্বাধীনতা এবং সহানুভূতিসূচক মনোবৃত্তি সমূহের উন্নয়ন।
প্রেম নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ বলেন, "প্রেমে পড়া মানে নির্ভরশীল হয়ে পড়া। তুমি যার প্রেমে পড়বে সে তোমার জগতের একটা বিরাট অংশ দখল করে নেবে। যদি কোনো কারণে সে তোমাকে ছেড়ে চলে যায় তবে সে তোমার জগতের ঐ বিরাট অংশটাও নিয়ে যাবে। তুমি হয়ে পড়বে শূন্য জগতের বাসিন্দা।"
এই উক্তিটিকে যদি আমরা বিশেষ বিশ্লেষণ করতে যাই তাহলে এখানে অস্তায়মান ব্যাপারটা চলে আসে। তাহলে বলা যায় কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ক্ষণস্থায়ী অর্থাৎ অনিশ্চিত। এর কারণ হিসাবে ভুল সংজ্ঞা করে ফেলাকেই দায়ী করা যায়। কারণ, "প্রেম" বলতে আমরা বর্তমানে যেটাকে বুঝি সেটা মনের একটা অস্বাভাবিক, উন্মত্ত, প্রায়-নেশাচ্ছন্ন অবস্থা। এই
অবস্থায় অনেক অসঙ্গত কাজও সঙ্গত বলে মনে হয়, মানসিক স্থিতি অল্পতেই বিঘ্নিত নয়। কিন্তু প্রেমের মূল বৈশিষ্ট্য হল কাউকে বা কিছুকে কামনা। আর কামনা থাকা মানেই যাতনাও থাকবে। প্রেম তাই কামনাময় ও যাতনাময়। তাছাড়া প্রেম মানুষ কে যুক্তিহীন করে দেয়। মানব মস্তিষ্কে অ্যামিগডালা নামের একটা অঞ্চল আছে, বাদামাকৃতির। আর মস্তিষ্কের ওপরের স্তরে আছে কর্টেক্স। অ্যামিগডালা আর কর্টেক্স অঞ্চলের আছে বিশেষ কিছু গুণ। ভয়-ভীতির জন্ম ওই অঞ্চলে। মানুষ বিপদের আগাম গন্ধ পায়, খারাপ পরিস্থিতিতে সতর্ক হতে পারে, এড়াতে পারে আকস্মিক দুর্ঘটনা- তা ওই অঞ্চলের কারণে। তুর্কি তরুণ/তরুণী প্রেমে পড়লে কর্টেক্স আর অ্যামিগডালা কাজ বন্ধ করে দেয় অনেকটাই। আসলে ভালোবাসা সৃষ্টিকারী হরমোনগুলো বাধ্য করে ওই অঞ্চলকে নিষ্ক্রিয় থাকতে। আর শুনতে অপ্রিয় লাগলেও এই কামনা ও যাতনার জন্য আমরা নিজেরাই শেষ অবধি দায়ী। তাছাড়া এখানে ভয়ঙ্কর হাস্যকর একটা বিষয় হচ্ছে এত এত বিশেষ এই অনুভূতিও পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে হারিয়ে যেতে পারে। তো তাহলে কিসের এতো মহাকাব্য রচনা!! আসলে মানুষের বৈশিষ্ট্যগত আচরণের সাপেক্ষে এই বিষয়টাকেও স্বাভাবিক ভাবেই বিবেচনা করতে হবে। কারণ আপনিও মানুষ। সেক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে সেগুলো হলো শুধুমাত্র অনুভূতির উপর বিশ্বাস করে থাকাটা বোকামী। এখানে আস্থার সাথে অবশ্যয় আচরণগত কিছু বিষয় ঠিক রাখতে হবে। যেমন, দায়িত্ববোধ বা বলা যায় যে দুই পক্ষ থেকেই দায়িত্বের ব্যাপারে কোনো ঘাটতি থাকতে পারবে না। এখানে কি কি বিষয়ে দায়িত্বশীল থাকতে হবে সেই ব্যাপারেও সতর্ক থাকা উচিত। কারণ, অনেক কিছু পরিবেশ সাপেক্ষে নিজেকে বুঝে নিতে হবে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে "গুরু পূর্ণ" মনে করা। কোনো ভাবেই অবহেলা বা গুরুত্বহীন দৃষ্টিতে আলোকপাত করা যাবে না। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কারণ একবার গুরুত্বহীন মনে করলে এর প্রভাব বাড়তেই থাকবে। তাই দায়িত্ব এবং সম্মানের সাথে গুরুত্বের ব্যাপারটা দেখতে হবে। আমার জানি যে, পরস্পর সম্মানবোধ পারস্পরিকতা বাড়ায়। প্রেমের ক্ষেত্রেও পরস্পর সম্মান বোধের উল্লেখযোগ্যতা বা প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনার যত্নশীলতা বা অন্য সবকিছু পরিপক্কতাপূর্ণ সম্মানের সাথে হতে হবে। কারণ আত্মসম্মান যেখানে আহত, প্রেম সেখানে বিপর্যস্ত এবং অবশ্যই তার ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে সবকিছুতেই সহজলভ্যতা বা সহজ প্রাপ্যতা পরিপূর্ণ আকাঙ্ক্ষায় প্রাপ্তির প্রত্যাশাকে অথবা মর্যাদাপূর্ণ গুরুত্বকে উল্লেখযোগ্যভাবে সংকীর্ণ করে। তাই সবদিকেই কিছু অপূর্ণতা রাখতে হয় তা না হলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর প্রত্যাশা বা আকাঙ্ক্ষা করার কিছুই থাকবে না। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রই পরিপূর্ণ হয়ে গেলে স্থানান্তরিততা আবশ্যক হয়ে পড়ে। তাই স্থিরতার সাথে অস্থির না হয়ে অল্পতেই খুশি হয়ে সাবধানে পথ অতিক্রম করতে হবে। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রই, প্রত্যেকটা ধাপে, প্রত্যেকটা বিষয়ে পরস্পর ছাড় দেওয়ার বিষয়টাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ ছার না দিলে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ভুলবশত ভুল কিনা ইচ্ছাকৃত ভুল সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ, আপনার শাসন করার অধিকার আছে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে পারস্পরিক যোগাযোগ যতো ভালো থাকবে, ততোই পরস্পরের প্রতি আবেগ, ভালোবাসা সং থাকবে। তাই আচরণ হতে হবে সহনশীল। সব ক্ষেত্রেই ধৈর্য প্রয়োজন এবং দীর্ঘস্থায়ী ভালো সম্পর্কের জন্য তো বটেই। পার্টনারের মতামতের প্রতি সহমর্মিতা না থাকলে সুস্থ সম্পর্ক তৈরি হতে পারে না।
"There is too much pressure ... on what a romantic partner should be. They should be your best friend, they should be your lover, they should be your closest relative, they should be your work partner, they should be the co-parent, your athletic partner. ... Of course everybody isn't able to quite live up to it."
একটি সম্পর্ক টিকে থাকে বিশ্বাসের উপর। সম্পর্কের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস। বিশ্বাস হচ্ছে সেই নিরাপত্তা বলয় যেটা কিনা দুজন মানুষকে পৃথিবীর আর সব সমস্যা ও বিপদ থেকে নিরাপদ রাখে। আর এই বিশ্বাস যদি কখনো একটু হলেও হালকা হয়ে যায় তাহলে যতটাই কেউ ভালোবাসুন না কেন সে তার সঙ্গীকে, সম্পর্কের শেষ দাগটা নির্ধারণ করা হয়ে যায় তখনই। তাই একে অন্যকে বিশ্বাস করুন কিন্তু এই বিশ্বাসের পূর্বে বিশ্বাসের বিশ্বস্ততার বিশ্লেষণ প্রয়োজন। অর্থাৎ, আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে আপনার আস্থা নির্ভরযোগ্য। আর কিছুটা সময় সঙ্গীকে নিজের মতন করে কাটাতে দিন। ভালোবাসাটাই বড় কথা নয়, ভালোবাসার স্বীকৃতিটা প্রয়োজন। ছোট-বড় সমস্ত বিষয়ে পার্টনারের অবদানকে প্রকাশ্যে স্বীকার করাটা দরকার। সম্পর্কে সততা ও বিশ্বাস বজায় রাখতে হবে। প্রিয়জনের প্রতি আপনি যতটা লয়্যাল থাকবেন, তিনিও ততটাই আপনাকে ভালোবাসবেন। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে নিজেকে দিয়ে বিচার করার চেষ্টা করুন। আপনার কাজ ও আচার আচরণের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশের চেষ্টা করুন। সম্পর্ক মানে সবকিছু ভাগাভাগি করে নিতে জানা। দু'জনের স্বপ্নের কথা, আগ্রহের কথা, পছন্দ-অপছন্দ সবকিছুই ভাগাভাগি করে নিতে জানতে হবে। এভাবে একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে গেলে কেউ সেখান থেকে হুট করে বেরিয়ে আসতে পারে না। পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই দু'জনকে একই বন্ধনে বেঁধে রাখে। একজন আরেকজনের প্রতি যত বেশি ভাবে নির্ভরশীল থাকবে তাদের সম্ভাবনা তত উজ্জ্বল। অর্থাৎ প্রত্যেকটা দিক থেকেই নির্ভরশীলতার ব্যাপারটা ধরে রাখতে হবে। আপনি একে অপরের সাথে একটি অর্থপূর্ণ মানসিক সংযোগ বজায় রাখেন এবং প্রত্যেকটা সম্পর্কের মাঝে একটা স্বাস্থ্যকর দূরত্ব থাকা উচিত।
কিছু বিষয় মানে রাখতে হবে : মানুষকে সৃষ্টিকর্তা নিখুঁত বানায়নি। এটা কোনভাবেই সম্ভব না যে কোন একজন মানুষ সম্পন্ন নিখুঁত। বাহ্যিক দৃষ্টি দিয়ে এটা বোঝা সহজ না। কারণ এখানে কারো অভ্যন্তরীণ আর বাহ্যিক সংযুক্ত সমস্যার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অনুমান করা সম্ভব না! সেক্ষেত্রে অবশ্যই পরস্পর পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক। ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বুঝতে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। অর্থাৎ, আপনার ব্যক্তিত্ব এবং খুঁত গুলোকে যে সম্মানের সাথে গ্রহণ করতে পারে আবার আপনি যার ব্যক্তিত্ব এবং খুঁত গুলোকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করতে পারেন। একটা বিষয় মনে রাখা জরুরী যে পৃথিবীতে কোন কিছুই অসাধারণ হয় না প্রকৃতপক্ষে সাধারণকে-ই অসাধারণ করে রাখা হয় বা স্পেশাল দৃষ্টিতে দেখা হয় এবং এটা ততক্ষণই স্পেশাল যতক্ষণ স্পেশাল হিসাবে রাখা বা দেখা হচ্ছে।
“সবাই তোমাকে কষ্ট দিবে, তোমাকে শুধু এমন একজন কে খুঁজে নিতে হবে যার দেয়া কষ্ট তুমি সহ্য করতে পারবে ”